Is Majhab means the Division | মাজহাব কি ও কেন

মাজহাব 

মাজহাব আরবি শব্দ। এর অর্থ পথ, মত বা অভিমত। কুরআন-সুন্নাহে যেসব বিষয় মুসলিমদের বুঝে আসেনা, সেসব বিষয় বিজ্ঞ ইমামগণরা গবেষণা করে যে মতামত প্রদান করেন তাকেই মাজহাব বলে। অর্থাৎ কুরআন-সুন্নাহে যেসব বিষয় আমরা সরাসরি বুঝতে পারি না, বিজ্ঞ আলেমগণরা সেসব বিষয় ভালোভাবে বিশ্লেষণ করে যে মতামত দেয়, সেই অনুযায়ী আমল করাকে মাজহাব বলে।

  • Ads
  • Ads

৪ টি প্রসিদ্ধ মাজহাব

মাজহাব কুরআন-সুন্নাহের বিরোধী কিছু নয় বরং এটি কুরআন-সুন্নাহকে ভালোভাবে বুঝতে ও সহজভাবে আমল করতে সাহায্য করে। প্রসিদ্ধ মাজহাব চারটি। যথা: ১. হানাফী ২. মালিকি ৩. শাফেয়ী ৪. হাম্বলী। কুরআন-সুন্নাহে অনেক কিছু বিক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ্য করা হয়েছে। আর সেগুলোকে সুশৃংখলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে মাজহাবে।

মাজহাব একাধিক হওয়ার কারণ

আমরা আগেই জেনেছি মাজহাব মানে মত বা মতামত। তাই প্রত্যেকের মতামত একই রকম হবে এটা যৌক্তিক নয়। কোন হাদিস বর্ণনা করতে গেলে একেকজনের মতামত বা ব্যাখ্যা একেকরকম হয়। কারণ মানুষ সবসময় নতুন ও ভিন্নভাবে চিন্তা করতে পছন্দ করে। একারণেই কুরআন সুন্নাহে একাধিক মতামত প্রকাশ পায়। হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর পক্ষ থেকেও একটি আমল আদায়ের প্রতি একাধিক নিয়ম পাওয়া গেছে। যেমন: রাসূল (সা:) সালাতের শুরুতে কখনও কখনও বুকের উপর হাত বেঁধেছেন, কখনো নীচে, কখনো নাভির সাথে মিলে হাত বেঁধেছেন, কখনো আবার নাভি সংরক্ষণের নিচে হাত বেঁধেছেন। হযরত মুহাম্মদ (সা:) সালাতের সময় এরকম একাধিক ভাবে হাত বাঁধার কারণে কোন কোন সাহাবীরা রাসূল (সা:) এর বুকের উপর যে হাত বাঁধা সেটি গ্রহণ করেছে, কোন সাহাবীরা বুকের নীচে যে হাত বাঁধা সেটি গ্রহণ করেছে, কেউ আবার নাভীর সাথে মিলিয়ে যে হাত বাঁধা সেটি গ্রহণ করেছে, কেউ নাভি সংরক্ষণে নিচে যে হাত বাঁধা সেটি গ্রহণ করেছে। আবার কখনো রাসূল (সা:) হাত বাঁধা অবস্থায় ক্লান্ত হয়ে গেলে হাত ছেড়ে দিতেন। মালেকী মাজহাবের অনেক অনুসারী সাহাবারা এই মতামতকে গ্রহণ করেছেন।

  • Ads
  • Ads

নবী (সা:)-এর যুগে একটি বিষয় নিয়ে একাধিক মতামত

আল্লাহ্ রাসূল (সা:) এর কাছ থেকে এরকম একাধিক আমল প্রমাণ হওয়ার ফলে একাধিক মতামত বা ভিন্নতা তৈরি হয়েছে। মাজহাবের ইমামগণরা এই ধরনের ভিন্নতার জন্য দায়ী নয় বরং রাসূল (সা:) এর যুগেও সাহাবাদের মাঝে একটি বিষয় নিয়ে একাধিক মতামত ছিল। যেমন: সালাতের শুরুতে কোন কোন সাহাবারা "সূরা ফাতেয়া" শুরু করার আগে (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) এটি আওয়াজ করে পড়তেন, তারপর "আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আল-আমিন" পড়ে সালাত শুরু করতেন। আবার অনেক সাহাবারা সালাতের শুরুতে (বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম) এটি আওয়াজ করে পড়তেন না বরং "আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন" এখান থেকে সালাত শুরু করতেন। সুতরাং মতের ভিন্নতা শুধু আমাদের সময় নয়; সাহাবীদের সময়ও ছিল। 

চারটি মাজহাব সুবিন্যস্তভাবে গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত

চারটি মাজহাবের যে চারজন ইমাম ছিলেন তাদের উসুল বা নিয়মগুলো যতটা সুবিন্যস্তভাবে গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত হয়েছে, অন্যান্য কোন ইমামের মতামতগুলো এরকম সুবিন্যস্তভাবে গ্রন্থাকারে সংরক্ষিত হয়নি। ফলে তাদের অনুসারীরা গড়ে উঠতে পারেনি। আর এ কারণেই গোটা বিশ্বে চারটি মাজহাব প্রচলিত হয়েছে।

  • Ads
  • Ads

মাজহাবের প্রয়োজনীয়তা

কুরআন-সুন্নাহে এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো সরাসরি মুসলিমদের বুঝে আসেনা, ফলে মুমিন ব্যক্তিরা কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করতে পারে না। মাজহাব সেই বিষয়গুলোকে সুন্দরভাবে বিশ্লেষণ করে মুমিনদের মাঝে তুলে ধরেন। ফলে মুমিন ব্যক্তিরা সেই অনুযায়ী আমল করতে পারে। অনেকে মনে করেন মাজহাবের কারণে ইসলাম একাধিক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। কিন্তু মাজহাব ইসলামকে বিভক্ত করেনি বরং মাজহাব ইসলামকে অনেকগুলো ভাগে ভাগ হওয়া থেকে বাঁচিয়েছে। বর্তমানে চারটি মাজহাব প্রচলিত আছে। সেগুলোর মধ্যে আমরা হানাফী মাজহাবের অনুসারী। কারও পক্ষে যদি  হানাফী মাজহাব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে তাহলে সে অন্য ইমামের মাজহাব গ্রহণ করতে পারবে, এই সুযোগ তাকে দেওয়া হয়েছে (দলিলের আলোকে)। কোন মাজহাবই ছোট নয়। মাজহাব চারটি হওয়ার কারণে আল্লাহর প্রতি আমল করা আরও অনেক সহজ হয়েছে। সুতরাং মাজহাবের বাহিরে গিয়ে কুরআন-সুন্নাহকে মানা সম্ভব না।

মাজহাবের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ

বর্তমান বিশ্বে চারটি মাজহাব প্রচলিত আছে।

১. হানাফী: সর্বপ্রথম হানাফি মাজহাব ইরাকে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ওমর ফারুক (র:) মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় খলিফা ছিলেন। তিনি ১৬ হিজরীতে ইরাক জয় করেন এবং ইরাকের কুফা নগরকে প্রশাসনিক শহর হিসেবে ঘোষণা দেন। কুফা শহরে যে মুসলিম ভাইয়েরা ছিল তাদেরকে কুরআন-সুন্নাহ শিক্ষা দেয়ার জন্য আল্লাহর রাসূল (সা:) তাঁর প্রিয় সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (র:) কে মদিনা থেকে কুফায় প্রেরণ করেন। সেখানকার অধিবাসীদের কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুরআন-সুন্নাহ প্রচার করতে থাকলেন। তার ইন্তেকালের পর এ দায়িত্ব চলে আসে তারই ছাত্রের উপর। আবার অনার মৃত্যুর পর এ দায়িত্ব পান তার ছাত্র। এভাবে ইমাম আবু হানিফা ১২০ হিজরীতে এ দায়িত্বটি পান। তখন তার বয়স ছিল  ৪০ বছর। তিনি সব মাসালা সংগ্রহ করেন এবং সেগুলোকে গবেষণা করে 'হানাফি মাজহাব' প্রতিষ্ঠা করেন। 

২. মালিকি মাযহাব: যেসময় ইমাম আবু হানিফা ইরাকে হানাফী মাযহাব প্রতিষ্ঠা করেন তখন মদিনাতে ইমাম মালেক (রহ:) 'মালিকি মাজহাব' প্রতিষ্ঠা করেন। এবং মদিনা শহরকে কেন্দ্র করে ইমাম মালেক (রহ:) এর 'মালেকী মাজহাবের' অনুসরণ চলতে থাকে।  

৩. শাফেয়ী মাজহাব: ইমাম শাফেয়ী ছিল ইমাম মালেক (রহ:) এর ছাত্র। তিনি মিশরে গিয়ে তার শিক্ষক ও ইমাম আবু হানিফার যত মাসালা ছিল সবগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে 'শাফেয়ী মাজহাব' নামে একটি নতুন মাজহাব প্রতিষ্ঠা করেন। এবং মিশরকে কেন্দ্র করে 'শাফেয়ী মাযহাব' এর অনুসরণ চলতে থাকে। 

৪. হাম্বলী মাযহাব: ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:) ছিলেন ইমাম শাফেয়ী এর ছাত্র। তিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। তার সময় প্রচলিত যে তিনটি মাজহাব ছিল, সেগুলো কে তিনি ভালোভাবে বিশ্লেষণ করেন। এবং তিনি তিনটি মাজহাবের আলোকে নতুন করে আরও একটি মাজহাব প্রতিষ্ঠা করেন। আর ঐ মাজহাবটির নাম রেখেছিলেন 'হাম্বলী মাযহাব'। বাগদাদ শহরকে কেন্দ্র করে হাম্বলী মাযহাবের অনুসরণ চলতে থাকে।

  • Ads
  • Ads

বিখ্যাত চারটি মাযহাব প্রতিষ্ঠিত

চার ইমামের চারটি মাজহাব গোটা বিশ্বে সম্মান  লাভ করে। মুসলিমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই চারটি মাজহাব গ্রহণ করেন। সারা বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায় মুসলিমরা কোন না কোন মাজহাব গ্রহণ করেছে। 'হানাফী মাযহাব' অনুসরণ করা দেশগুলো হচ্ছে - বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিশরসহ আরও কিছু দেশ। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মুসলিম হানাফী মাজহাবের অনুসারী। 'মালিকি মাজহাব' অনুসরণ করা দেশগুলো হচ্ছে - কুয়েত, বাহরাইন, দুবাই ও সৌদিআরবের কিছু অঞ্চল এবং নর্থ আফ্রিকান দেশগুলোতে। 'শাফেয়ী মাজহাব' অনুসরণ করা দেশগুলো হচ্ছে - শ্রীলংকা, ইয়েমেন, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া। 'হাম্বলী মাজহাব' অনুসরণ করা দেশগুলো হচ্ছে - কাতার, দুবাই ও সৌদি আরব।

মাজহাবের চার ইমামের সম্পর্ক

চার মাজহাবের চার ইমামের মধ্যে পারস্পরিক ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক ছিল। ইমাম আবু হানিফা (রহ:) এর ছাত্র হলেন ইমাম মালেক (রহ:),তাঁর ছাত্র ইমাম শাফেয়ি এবং তাঁর ছাত্র ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ:)। তাদের মধ্যে যে কতটা সম্মান বা উদারতা ছিল, এটার একটা উদাহরণ হচ্ছে - ইমাম শাফেয়ি আমন্ত্রণ পেয়ে কুফায় আবু হানিফার কবর জিয়ারত করতে যান এবং কবর জিয়ারত করা শেষ করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি পাশের মসজিদে গিয়ে ইমাম আবু হানিফার মাযহাব অনুযায়ী সালাত আদায় করলেন। সবাই অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে, তিনি বললেন আমি আবু হানিফাকে সম্মান দেখানোর জন্য তার মাযহাব অনুযায়ী সালাত আদায় করেছি।

  • Ads
  • Ads

মাজহাব নিয়ে সমাজে বাড়াবাড়ি না করা

নবীরা কখনো ভুল করেনি তাই তাদেরকে বলা হয় মাসুম। কিন্তু মাজহাবের ইমামগণরা গবেষণা করতে গিয়ে কোন একটা জায়গায় ভুল করতে পারে, তাই তাদেরকে মাসুম বলা যাবে না। ইমাম শাফেয়ী এ ব্যাপারে বলেন - আমার যে মতামতকে আমি শুদ্ধ মনে করি, সেটা ভুলও হতে পারে। আবার অন্যরা এ ব্যাপারে যে মতামত দিয়েছে যেটাকে আমি ভুল মনে করি, সেটাও শুদ্ধ হতে পারে। তাই মাজহাবকে নিয়ে কখনো বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। কারণ মাজহাব'কে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে কুরআন-সুন্নাহকে ভালোভাবে বোঝার জন্য। অর্থাৎ আল্লাহর দ্বীনকে বোঝার জন্য মাজহাব একটি মাধ্যম।

উপসংহার

আমাদেরকে কুরআন-সুন্নাহের প্রত্যেকটা বিষয় ভালোভাবে বুঝে পড়তে হবে। আর যদি কুরআন-সুন্নাহের কোন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হয় তাহলে মাজহাবের সাহায্য নিতে হবে। মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে মাজহাব অনুযায়ী কুরআন-সুন্নাহ বোঝার তৌফিক দান করুক, আমিন।

  • Ads

Little Known Ways to [Desirable Outcome]

Here you want to write a short paragraph that quickly explains exactly what your product/service is and how it’s the perfect solution for your potential customers

Benefit 01 Title

What does the customer get from buying your product or service.

Benefit 02 Title

To find benefits, ask yourself: “What result will they obtain?

Benefit 03 Title

Take one of the features of your offer and add “this will allow you to…”