Preparation for Ramadan | রমাদানের প্রস্তুতি
পবিত্র মাহে রমজান
রমজান মাস মুসলিমদের জন্য ইবাদতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। "রমজান মোবারক" এর আশায় হযরত মুহাম্মদ (সা:) এবং তাঁর সাহাবীগণরা দুই মাস আগে থেকেই ব্যাকুল হয়ে থাকতেন, কবে রমজান মাস আসবে। তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন, হে আল্লাহ আপনি রজব এবং শাবান মাসে আমাদেরকে বরকত দিন এবং রমজান পর্যন্ত আমাদেরকে পৌঁছে দিন।
রমজান হাজার মাসের চেয়েও উত্তম
সাহাবীরা 'রমজান' আসার ছয় মাস আগে থেকেই অপেক্ষা করতেন এবং 'রমজান' মাস পাওয়া মাত্রই তারা এক আল্লাহ তায়ালার ইবাদতে নিজেদেরকে মগ্ন রাখতেন। কারণ এ মাস হচ্ছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। 'রমজান' মাস চলে যাবার পরের বাকি ছয় মাস আল্লাহর দরবারে তাদের ইবাদতগুলো কবুল হয়েছে কি'না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতেন। এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন তাদের ইবাদতগুলোকে কবুল করে নেয়ার জন্য।
সিয়াম বা রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য
মহান আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তিনি এই সৃষ্টি জগতের মালিক। কোনো কিছুই তাঁর আড়ালে থাকেনা। তিনি সবকিছু জানেন, বুঝেন ও শুনেন। তিনি রমজান মাসে আমাদের ওপর 'সিয়াম' ফরজ করে দিয়েছেন। এবং তিনি বলেন- ওহে বিশ্বাসীরা সিয়ামকে এ রমজান মাসে তোমাদের জন্য অবতীর্ণ করা হয়েছে যেমনিভাবে তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর করা হয়েছিল। সিয়াম বা রোজা পালনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা সচেতন হওয়া। আমরা যখন সিয়াম বা রোজা পালন করা অবস্থায় থাকি তখন আমাদের ক্ষুধা বা তৃষ্ণা লাগে। আমরা চাইলেই কিছু খেতে বা পান করতে পারি। কিন্তু আমরা সেটা করি না, কারণ কেউ না দেখতে পেলেও মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের দেখছেন।
নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা
সিয়াম বা রোজা এর মাধ্যমে আমরা আমাদের নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারি। মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের জন্য আমরা রমজান মাসে রোজা পালন করে থাকি। তাঁর আদেশ নির্দেশ গুলো মেনে চলার চেষ্টা করি। রোজা রাখা অবস্থায় আমরা কোন খাবার গ্রহণ করি না। আমরা চাইলে রমজান মাসে নিজেদের ইচ্ছামতো চলতে পারি। কিন্তু রাসূল (সা:) এ সম্পর্কে বলেছেন- তোমরা রোজা রাখা অবস্থায় একে অপরকে গালি ও অশ্লীল কথা বলবে না। কেউ যদি তোমাদেরকে গালি দেয় বা ঝগড়া করতে আসে। তাহলে তুমি বলবে 'আমি রোজাদার' আমার পক্ষে ঝগড়া করা বা কোন ধরনের অশ্লীল কাজ করা সম্ভব নয়।
রাইয়ান নামক দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ
হযরত মুহাম্মদ (স:) এর ঘোষণা- যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা পালন করবে এবং কিয়ামতের ময়দানে বিচার শেষে যখন তাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে বলা হবে, তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে একটি স্পেশাল দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে বলবেন। স্পেশাল দরজাটির নাম হচ্ছে 'রাইয়ান'। রাইয়ান দরজা দিয়ে একমাত্র তারাই প্রবেশ করতে পারবে যারা দুনিয়াতে রোজাদার ছিল। এ দরজা দিয়ে যে একবার জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে কখনোই আল্লাহ তাআলার রহমতে তৃষ্ণার্ত হবে না।
রমজান মাসের ফজিলত
মহান আল্লাহ তায়ালা নিজের হাতে 'সিয়াম' পালনের ফজিলত দান করবেন। 'রমজান মোবারকে' আমরা যত নফল আমল করি তার সওয়াব ফরজের সমান দেওয়া হয়। এ মাসে একটা ফরজ ইবাদত করলে সত্তর থেকে সাতশ গুণ সওয়াব পাওয়া যায়। এছাড়া উমরা করলে হজের সমান সওয়াব দেওয়া হয়। অর্থাৎ অন্যান্য মাসে আমরা যদি নেক আমল করি তাহলে সেটার সওয়াব বাড়ানো হয় গাণিতিক হারে; কিন্তু রমজান মাসে সওয়াব বাড়ানো হয় জ্যামিতিক হারে। 'রমজান' আল্লাহ তায়ালার নেয়ামতের একটি মাস। তিনি এ মাসে ফেরেশতাদের প্রেরণ করেন এবং আমাদেরকে নেক কাজ করার আহবান জানান। অন্যদিকে পাপীদের থেমে যাবার জন্য নির্দেশনা দেন। এ মাসে মুসলিমদের জন্য নেক আমল বাড়ানো অনেক সহজ। আল্লাহ তায়ালা এ মাসের উসীলায় আমাদের অনেক গুনাহগুলোকে মাফ করে দেন। রমজান মাস পাওয়া সত্ত্বেও যারা আল্লাহর ক্ষমা করা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি, তাদের থেকে দুর্ভাগ্য ব্যক্তি আর কেউ নেই।
রমজান মাসের জন্য পরিকল্পনা করা
'রমজান' হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাস। তাই এ মাসে যে আমলগুলো আমরা করব আর যে কাজগুলো থেকে বিরত থাকব সেগুলো আগে থেকেই পূর্ব পরিকল্পনা করে নিব। পরিকল্পনাগুলো যেন অল্প হয়, তা'না হলে পরবর্তীতে তা আদায় করতে আমাদের জন্য কষ্টদায়ক হবে। এবং নিয়মিত সেই আমলগুলোকে আদায় করা। কারণ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হচ্ছে যেটা মানুষ নিয়মিত আদায় করে।
রমজান মাসের পরিকল্পনাগুলো
১. এ মাসে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামাতে আদায় করব। এবং কোন কারণ ছাড়া সালাত কাযা করব না।
২. সহি-শুদ্ধভাবে বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা। কারণ নফল ইবাদতের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ইবাদত হচ্ছে কুরআন তেলাওয়াত করা।
৩. কুরআন অর্থ বুঝে তিলাওয়াত করা। যে ব্যক্তিরা কুরআনকে হৃদয়ে ধারণ করেছে তারাই সম্মানিত হয়েছে।[যেমন: জিব্রাইল (আ:) কুরআনকে নিয়ে আসমান থেকে পৃথিবীতে নেমে এসেছিলেন, তাই তিনি শ্রেষ্ঠ ফেরেশতা। রাসূল (সা:) এর ওপর কুরআন নাযিল হয়েছিল, এ জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ রাসুল। রমজান মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে, তাই রমজান মাস হচ্ছে ১২ মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। কদরের রাতে কুরআন নাযিল হয়েছে, তাই মুসলিমদের জন্য এ রাতটি উত্তম। আমরা উম্মতে মুহাম্মদী এজন্য আমাদের উপর কোরআন নাজিল হয়েছে, তাই আমরা শ্রেষ্ঠ জাতি।]
৪. অনেকে মনে করেন রমজান মাস মানেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ইফতারে অংশ নেয়া এবং নতুন জামা-কাপড় কেনা। আসলে ব্যাপারটা এমন নয়। রমজান মাস হচ্ছে বরকতের মাস, নফল ইবাদতে ফরজের সমান সওয়াব ও উমরা করলে হজের সমান সওয়াব পাওয়ার মাস। এ মাসে আমাদের ঘুরাঘুরি ও কেনাকাটা করে সময় নষ্ট করা উচিত নয় বরং ইবাদতের মধ্যে রমজান মাস কাটানো উত্তম।
৫. ইফতারের পূর্ব মূহুর্তে দোয়া করা। এ সময় যে দোয়া করা হয় আল্লাহ তায়ালা তা কবুল করে নেন।
৬. সুন্দরভাবে তারাবি সালাত আদায় করা। অনেক ঈমাম প্রতিযোগিতা মূলকভাবে তারাবি সালাত আদায় করেন। এ ধরনের কাজ থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে হবে।
৭. শেষ রাতে তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা। যখন আমরা সেহেরি খেতে উঠি তখন আমাদের সুবিধামতো ২ বা ৪ রাকাত তাহাজ্জুদ সালাত আদায় করা। এরাতে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দার সকল দোয়া কবুল করে নেন।
৮. সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলো পরিমাণ মতো ব্যবহার করা। অযথা এসব সাইটগুলোকে ব্যবহার করে সময় নষ্ট না করা।
৯. রমজানের শেষ দশ রাতে অর্থাৎ বিজোড় রাত গুলোতে কদরের রাত খোঁজা। এরাতের ফজিলত অনেক। মহান আল্লাহ তায়ালা এরাতে মুসলিমদের গুনাহগুলোকে মাফ করে দেন।
উপসংহার
মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে রমজান মাসে উপরের আমলগুলো করার তৌফিক দান করুক, আমিন।
Little Known Ways to [Desirable Outcome]
Here you want to write a short paragraph that quickly explains exactly what your product/service is and how it’s the perfect solution for your potential customers
Benefit 01 Title
What does the customer get from buying your product or service.
Benefit 02 Title
To find benefits, ask yourself: “What result will they obtain?
Benefit 03 Title
Take one of the features of your offer and add “this will allow you to…”